বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ওয়ার্ল্ড এথনোস্পোর্টস ইউনিয়নের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও লোকজ ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তুরস্কের ইস্তানবুলে ওয়ার্ল্ড এথনোস্পোর্টস ইউনিয়নের সদর দপ্তরে এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মাননীয় যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা জনাব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ইউনিয়নের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট জনাব নেজমুদ্দিন বিলাল এরদোয়ান।
স্বাক্ষর পূর্ববর্তী বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার মাধ্যমে সভ্যতা ও সংস্কৃতির উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জনাব বিলাল এরদোয়ান বাংলাদেশের কাবাডি, কুস্তি, বলিখেলা এবং নৌকা বাইচের মতো খেলাগুলোর আন্তর্জাতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে জানান, তিনি এসব খেলার প্রচারে একসঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক। তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর সদস্যপদ প্রদান এবং বাংলাদেশে স্কুল শাখা খোলার আগ্রহের কথাও জানান।
তিনি কক্সবাজার সফরের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা চালুর মাধ্যমে মানবিক সহায়তা জোরদার করা সম্ভব। এ ব্যাপারে তাঁর সংস্থা সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান।
বিলাল এরদোয়ান ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী তরুণদের প্রশংসা করে বলেন, ন্যায় ও সংস্কৃতি রক্ষায় বাংলাদেশ আজ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় রচনা করেছে। তিনি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের নেতৃত্বে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও আত্মপরিচয়ের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মুসলিম জোটে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
মাননীয় উপদেষ্টা জনাব সজীব ভূঁইয়া বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ তার প্রকৃত বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগী। তুরস্ক সেই ঐতিহাসিক বন্ধুর অন্যতম।” তিনি বাংলাদেশের তরুণ সমাজের রাজনৈতিক সচেতনতা, সংস্কৃতি চেতনা ও ঐতিহ্যগত পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে তুরস্কের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।
তিনি আরও বলেন, “কাবাডি, দাড়িয়াবান্ধা, বলিখেলা, কুস্তি ও নৌকা বাইচের মতো খেলাগুলো শুধু খেলাই নয়, এগুলো আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। এই খেলাগুলোর আন্তর্জাতিকীকরণে ওয়ার্ল্ড এথনোস্পোর্টস ইউনিয়নের সহযোগিতা আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ।”
আলোচনার শেষে মাননীয় উপদেষ্টা আসন্ন “গ্লোবাল ইয়ুথ সামিট ২০২৫”-এ অংশগ্রহণের জন্য জনাব বিলাল এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফর দুই দেশের যুব ও ক্রীড়া সম্পর্ককে আরও গভীর ও কার্যকর করবে।