নিজস্ব প্রতিবেদকস্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, যেকোন দেশের উন্নতির মূল চালিকাশক্তি হলো কর্মক্ষম ও দক্ষ যুবশক্তি। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণরাই দেশকে উন্নতির চূড়ায় নিয়ে যেতে পারে। দেশের ভেতরে বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে যখনই যুবসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখনই সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে। তাই উন্নত রাষ্ট্র গঠনের জন্য তরুণ সমাজকে অবশ্যই মাদকমুক্ত রাখতে হবে।
তিনি এসব কথা বলেন রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে “মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৫” উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মোঃ খোদা বখস চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।
উপদেষ্টা আরও বলেন, মাদক চোরাচালানের ভয়াবহতায় নারীরা, শিশুরা এবং কিশোররা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার ফলে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ও মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে। এই সমস্যা মোকাবেলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি নয়া ধরনের সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক মাদক বা ‘নিউ সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্ট্যান্সেস’ (NPS) মোকাবেলায় নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানান।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জন্য নতুন ‘অস্ত্র সংগ্রহ ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৪’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে, যা মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্য আনবে। এছাড়া সাতটি বিভাগীয় শহরে ১,৪০০ কোটি টাকার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণের জন্য অনুমোদন মিলেছে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে পৃথক কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, মাদক সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র আইন প্রয়োগে সীমাবদ্ধ নয়; সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতা বাড়াতেও সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। মাদকবিরোধী প্রচারণাকে আরও জোরদার করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মোঃ খোদা বখস চৌধুরী বলেন, মাদকাসক্ত পরিবারের সদস্যরা মাদকের ভয়াবহতা ভালোভাবে বুঝতে পারে। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি জানান, বাংলাদেশে মাদক উৎপাদিত হয় না, তবে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পাচার হয়ে যুব সমাজকে নষ্ট করছে। তাই সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও জনসম্পৃক্ত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ, এবং ‘Annual Drug Report’ ও স্যুভেনির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এছাড়া উপদেষ্টা বেলুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।